প্রথমপাতা সম্পাদকীয় হোটেল রেস্তোরার গ্রেডিং

হোটেল রেস্তোরার গ্রেডিং

32
0

রাজধানীবাসী এমনিতেই নানা সমস্যায় আক্রান্ত ও বিপর্যস্ত। শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, অসহনীয় যানজট, জলাবদ্ধতা তো আছেই। যে কারণে মহানগরবাসী প্রায়ই পীড়িত ও অসহায় বোধ করে থাকে। এর পাশাপাশি নগরবাসীর অন্তহীন ভোগান্তির জন্য ভেজাল খাদ্য, পানীয়ও কম দায়ী নয় কোন অংশে। বাসাবাড়ি বা ঘরের খাবার-দাবার কমবেশি নিরাপদ হলেও রান্নার উপকরণগুলো যে নির্ভেজাল ও বিশুদ্ধ এমন বলা যাবে না সুনিশ্চিত করে। অধুনা শীতকালে মাছ-মাংস-দুধে ফরমালিন মেশানোর অভিযোগ কম থাকলেও গ্রীষ্মের আগমনে তা যে বহুল ব্যবহৃত হয়ে উঠবে না এমন গ্যারান্টি নেই। ওয়াসার কলের পানির কথা তো বলাই বাহুল্য। বোতলের পানিও শতভাগ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে বারবার। আর এর বাইরে রাজধানী ঢাকার প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হোটেল-রেস্তরাঁগুলোর অবস্থা তো সহজেই অনুমেয়।

প্রতিদিন অনেক মানুষ দেশের নানা স্থান থেকে নানান কার্যোপলক্ষে এসে থাকেন রাজধানীতে। বিশ্বের নানা স্থান থেকে আসেন বিদেশী পর্যটকরা। ক্ষুন্নিবৃত্তির প্রয়োজনে তাদের অনিবার্য শরণাপন্ন হতে হয় হোটেল-রেস্তরাঁগুলোর। তবে দুঃখজনক হলো অন্তত এই মুহূর্তে সুনিশ্চিত করে বলা যাবে না যে, অমুক রেস্তরাঁর খাবার ও পানীয় শতভাগ ভেজাল ও জীবাণুমুক্ত এবং নিরাপদ। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রেস্তরাঁ অবশ্যই আছে, তবে তাদের রান্না করা খাবার এবং পানীয় সর্বাংশে বিশুদ্ধ এমন নিশ্চয়তা মিলবে কিসের ভিত্তিতে? এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিনিখাক)। বাংলাদেশ রেস্টেুরেন্ট ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন (বিআরওএ), সিটি কর্পোরেশন এবং ভারতের আল কিউমারস কোম্পানির সহায়তায় তারা রাজধানীর দশ হাজারের বেশি হোটেল-রেস্তরাঁর গ্রেডিংয়ের কাজ শুরু করেছে পর্যায়ক্রমে। এর জন্য তারা প্রাথমিকভাবে হোটেল-রেস্তেরাঁর সার্বিক অবস্থা বোঝার জন্য ৩৫টি প্রশ্নের একটি চেকলিস্ট তৈরি করেছে। মূলত এর ভিত্তিতেই নিরূপিত হবে একটি হোটেল বা রেস্তরাঁর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও পরিবেশ, কিচেনের ব্যবস্থাপনা, কর্মচারীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, খাবার-দাবারের মান, পানি ও পানীয় দ্রব্যের গুণাগুণ, কাঁচামাল ও খাবার সংরক্ষণ তথা ফ্রিজিং পদ্ধতি, বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন পদ্ধতি ইত্যাদি ইত্যাদি। মূলত এসবের ভিত্তিতেই হোটেল-রেস্তরাঁর মান নির্ধারণ করে এ+, এ, বি ও সি গ্রেডিং দেয়া হবে। গ্রেডিংয়ের ভিত্তিতে দেয়া হবে চার রকমের রং সবুজ, নীল, হলুদ ও কমলা রঙের স্টিকার, যা রেস্তরাঁগুলোর প্রবেশপথে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। সবুজ বর্ণের স্টিকার এ+, নীল বর্ণ এ, হলুদ বি এবং সি কমলা ক্যাটাগরিতে পড়বে। এই রংযুক্ত স্টিকার দেখে হোটেল-রেস্তরাঁর গ্রাহক তথা অতিথিরা, এমনকি নিরক্ষর ও ভিন্নভাষী হলেও নিশ্চিত হতে পারবেন যে, তিনি কোন্ পর্যায়ের রেস্তরাঁয় ঢুকছেন। বি ও সি ক্যাটাগরির রেস্তরাগুলোতে মান বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হবে, যাতে তারা ব্যবসায় টিকে থাকতে পারে। ইতোমধ্যে মতিঝিল-দিলকুশায় ৫৭টি রেস্তরাঁকে গ্রেডিং প্রদান করা হয়েছে।

ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য এবং পানীয় প্রাপ্তিতে নিশ্চয়তার ক্ষেত্রে উদ্যোগটি যে যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ তাতে কোন সন্দেহ নেই। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ-আমেরিকাসহ অনেক উন্নত দেশে নিরাপদ খাদ্য তদারকি তথা সেফ ফুড কন্ট্রোলিং অথরিটি রয়েছে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যদি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং হোটেল-রেস্তরাঁর মালিক কর্তৃপক্ষ যদি আন্তরিক হন তাহলে হোটেল-রেস্তরাঁর এই গ্রেডিং পদ্ধতি নাগরিক জীবনে সুফল বয়ে আনলেও আনতে পারে।

 

আপনার অভিমত/মন্তব্য জানাতে পারেন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্যটি লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন