প্রথমপাতা কৃষি ও প্রকৃতি অতিথি পাখির আগমনে জাবি সেজেছে নতুন সাজে 

অতিথি পাখির আগমনে জাবি সেজেছে নতুন সাজে 

93
0

মোঃ রুবেল মোল্লা, জাবিঃ প্রাকৃতিক  সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি হিসেবে খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় । শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয় একটি আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের অপরূপ সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের সহজেই মুগ্ধ করে। শীতের এই মৌসুমে সুদূর সাইপ্রাস, নিউজিল্যান্ড, সাইবেরিয়া প্রভৃতি শীতপ্রধান দেশ থেকে আসা অতিথি পাখিগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যকে যেন আরো কয়েক গুন বাড়িয়ে তোলে। সেইসাথে পর্যটনের নতুন মাত্রা যুক্ত হয় জাবি ক্যাম্পাসে। অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত আনন্দঘন মুহূর্তের কথাগুলো নিয়ে আজকের পর্বটি লিখেছেন মোঃ রুবেল মোল্লা 

জাবির একটি লেকে অতিথি পাখি

           শীতের শুরুতেই পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলো। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত এইসব লেকের আশেপাশের হলগুলোর শিক্ষার্থীদের ঘুম ভাঙ্গে পাখির ডাক শুনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট, জাহানারা ইমাম হল , প্রীতিলতা হল,সুইমিংপুল ও মীর মশাররফ হোসেন হলের পাশের লেকগুলোই হয় অতিথিদের নির্ভরযোগ্য আভাসস্থল। আর সৌন্দর্য পিপাসু দর্শনার্থীরা দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে অতিথিদের দেখা পেতে । যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি মিটাতে তারা পরিবারসহ ছুটে আসে সৌন্দর্যের লীলাভূমি বলে খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

লেকে বিচরণ করছে অতিথি পাখি

অতিথি পাখির নিরাপদ আভাসস্থল তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়ায় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মনোয়ার হোসাইন রূপালী নিউজ বিডিকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন  শীত শুরু হওয়ার আগেই অতিথি পাখির বসবাসের উপযুক্ত জায়গা তৈরি করতে প্রতিটা লেক পরিস্কার করেন। এইসব পাখি সাধারণত শান্তশিষ্ট স্বভাবের হয়ে থাকে।এরা কোলাহল পছন্দ করে না। তাই দর্শনার্থীরা যেন পাখিদের বিরক্ত করতে না পারে সেজন্য লেকগুলোর আশে-পাশে সচেতনতামূলক ব্যানার, ফেস্টুন লাগিয়ে দেয়া হয়।

 বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি পাখির আগমন কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে শীত শুরু হতে না হতেই বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আগমনে ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে উঠত। কিন্তু এখন অল্প কিছু প্রজাতির পাখি শীতের শুরুতে আসে। পাখিদের বিরক্ত করা, লেকগুলো বসবাসের অনুপযোগী হওয়া এর অন্যতম কারণ।

সাইবেরিয়া থেকে আগত অতিথি

 বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাফিয়া রহমান নিতু বলেন, এইসব পাখি খুব শান্তিপ্রিয়। এরা কোলাহল পছন্দ করে না। তাই দর্শনার্থীদের ঢিল ছোঁড়া, কোলাহল সৃষ্টি করা উচিত নয় বলে আমি মনে করি। দর্শনার্থীরা যেন পুকুরে ঢিল ছুঁড়ে কোলাহল সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট সজাগ দৃষ্টি রাখার চেষ্টা করি।

লেকের উপর উড়ন্ত পাখি

 মিরপুর থেকে আগত দর্শনার্থী আবুল কালাম আজাদ রুপালি নিউজ বিডিকে বলেন, ব্যস্ত নগরের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে পরিবার নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে খুব ভাল লাগে। একটু স্বস্তির নিশ্বাস পেতে তাই এখানে ছুটে আসি।

এএইচ সবুজ/রুপালিনিউজ

আপনার অভিমত/মন্তব্য জানাতে পারেন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্যটি লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন