প্রথমপাতা তারুণ্য মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ইঞ্জিনিয়ার

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ইঞ্জিনিয়ার

18
0

ডেস্ক নিউজ:

আমাদের দেশে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করতে শিক্ষার্থীদের কম করে হলেও ১৬/১৭ বছর লেগে যায়। এরপর যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স বা বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় পাস করতে তরুণ তরুণদের তেইশ চব্বিশ বছর পেরিয়ে যায়। আর সেশন জট থাকলে তো আর কথাই নাই। কিন্তু এবার এমন এক মেধাবী ছাত্রীর খবর পাওয়া গেছে যে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বসে আছে।

তার নাম সমহিথা কাসিভাত্তা। বাড়ি ভারতের তেলেঙ্গনার রাজ্যে। যে বয়সে সাধারণত মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে থাকে ছেলেমেয়েরা, সে বয়সে শুধু ইঞ্জিনিয়ারই নয়, CAT পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণও হয়েছে সে! কেবল এই নয়, আরো বহু বিস্ময়কর কৃতিত্বের অধিকারী সমহিথা।

এখানে উল্লেখ্য, Common Admission Test (CAT)হচ্ছে ভারতের কম্পিউটার ভিত্তিক একটি পরীক্ষা। Indian Institutes of Management এই পরীক্ষা নিয়ে থাকে।

তেলঙ্গনার বাসিন্দা সমহিথা যে বিরল প্রতিভার অধিকারী তা অনেক আগেই টের পেয়েছিলেন তার বাবা-মা। আর এই প্রতিভাই অন্য শিশুদের থেকে সমহিথাকে আলাদা করে তুলেছিল।

তিন বছর বয়সে তার বয়সী শিশুরা পড়তে শেখে। অক্ষর চিনতে শেখে তারা। আর সমহিথা ওই বয়সেই বিশ্বের সমস্ত দেশ, তাদের জাতীয় পতাকা, তার রাজধানী গড়গড় করে বলতে পারত।

ছোট থেকে লেখালেখিতেও পাকা হয়ে উঠেছিল সমহিথা। সৌর জগতের উপর তার একটি ১৬ পাতার আর্টিকল এতটাই উন্নত মানের ছিল যে, ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম এর প্রশংসা করেছিলেন। আর ওই প্রবন্ধটা সে লিখেছিল মাত্র ৫ বছর বয়সে।

একবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখেছিল সে। তাতে দেশের অর্থনীতির উন্নতি কী ভাবে সম্ভব তার একটি বিশদ মতামত ছিল। সমহিথার সেই মতামতও যথেষ্ট প্রশংসিত হয়।

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট আবদুল কালামের সঙ্গে শিশু সমহিতা

এখানেই শেষ নয়। ১০ বছর বয়সে দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ৮.৮ গ্রেড নম্বর পায় সে। অঙ্ক এবং বিজ্ঞান বিভাগে তার গ্রেড ছিল ১০। এরপরই ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনার ইচ্ছাপ্রকাশ করে সে।

কিন্তু ভারতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গেলে একটি ন্যূনতম বয়সের প্রয়োজন। তবে সমহিথার বিষয়টা ছিল একটু আলাদা। প্রতিভার জন্যই বয়সে ছাড় পায় সমহিথা, তাকে পড়ার অনুমতি দেয় তেলঙ্গনা রাজ্য সরকার। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করে সমহিথা। আর মাত্র ১৬ বছর বয়সে সে তেলঙ্গনার কনিষ্ঠতম ইঞ্জিনিয়ার হয়ে যায়।

সম্প্রতি ১৭ বছর বয়সে CAT পাশ করেছে সমহিথা। এবার সমহিথার লক্ষ্য অর্থনীতিতে এমবিএ করা।

এই সাফল্যের পিছনে তার বাবার গুরুত্ব অপরিসীম, জানিয়েছে সমহিতা। সমহিতার বাবা আমেরিকার এক এয়ারক্র্যাফ্ট কোম্পানির সঙ্গে কাজ করতেন। কিন্তু মেয়ের এই অসম্ভব প্রতিভার কথা জানার পরই চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন।

মেয়েকে প্রথম থেকে ভারতেই বড় করতে চেয়েছিলেন তিনি। তিনি চাননা মেয়ে বাইরের কোনো দেশে যাক। তার ইচ্ছা, সমহিতা তার সমস্ত পড়াশোনা দেশেই শেষ করবে।

পরিবারের সঙ্গে সমহিতা

সূত্র: আনন্দবাজার

এমএ/আরএন

আপনার অভিমত/মন্তব্য জানাতে পারেন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্যটি লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন