প্রথমপাতা গুণীজন “বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস : যাবীন তাসমিন সানা হক

“বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস : যাবীন তাসমিন সানা হক

53
0

বিশেষ লেখা:

১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭২ সালে এই দিনে পাকিস্তানি বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন। ১৯৭১ সালে ৭ ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এ ঘোষণার পর ২৫ মার্চ কালোরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙ্গালির উপর জাপিয়ে পড়েন। বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন এবং সর্বস্তরের লোকজনকে মুক্তিযোদ্ধে জাপিয়ে পড়ার আহ্বান জানায়।

স্বাধীনতা ঘোষণার পরই ততক্ষালীন পাকিস্তানির সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে নিয়া যাওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী করা হলে তার অনুপস্থিতিতে চলে মুক্তিযুদ্ধ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে ছাড়া পান ৮ জানুয়ারি। এদিন বঙ্গবন্ধুকে বিমানে তুলে দিলে সকাল ৬ টায় লন্ডন এসে পৌঁছান। সকাল সাড়ে ১০ টার পর তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দীন আহমেদ, ইন্দীরা গান্ধী সহ আরও অনেকের সাথে কথা বলেন।

পরের দিন ৯ জানুয়ারি ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর একটি বিমানে করে দেশের পথে যাত্রা করেন। ১০ জানুয়ারি সকালে তিনি দিল্লীতে এসে নামেন। সেখানে ভিভি গিরি, ইন্দীরা গান্ধী ও সে দেশের জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা গ্রহন করেন এবং তাদের এই অকৃপণ সাহায্যর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এরপর দিল্লী থেকে স্বাধীন প্রিয় বাংলাদেশের মাটিতে বেলা ১ টা ৪১ মিনিটে পা রাখেন বঙ্গবন্ধু। দীর্ঘ ৯ মাস পাক বাহিনীর এ গণহত্যার সংবাদ শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বঙ্গবন্ধু। আর সেদিন সোহরাওয়ার্দী ময়দানে লাখো জনতার সামনে তাদের উদ্দেশে ঘোষণা দেন ‘রক্ত দিয়ে হলেও আমি বাঙ্গালি জাতির এই ভালোবাসার ঋণ শোধ করে যাবো।

  • লেখক:

     শিক্ষার্থী

    কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ

 

আপনার অভিমত/মন্তব্য জানাতে পারেন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্যটি লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন