প্রথমপাতা জাতীয় প্লাবিত হরিরামপুর: দুর্ভোগে চরাঞ্চলের মানুষ

প্লাবিত হরিরামপুর: দুর্ভোগে চরাঞ্চলের মানুষ

3
0

আরিফ হোসেন সবুজ :  গত কয়েক দিনে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে উপজেলা পরিষদ চত্বর, হরিরামপুর থানা প্রাঙ্গণ ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির স্রোতে উপজেলা সদরের প্রধান সড়কের তিনটি স্থান ধসে গেছে। সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলা সদরে চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ২০ হাজারের বেশি পরিবার। চরম দুর্ভোগে পড়েছে তারা।

স্থানীয়দদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হরিরামপুর উপজেলা সদর প্রাঙ্গন ছাড়াও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বকচর, ভাওয়ারডাঙ্গী, বাহির চর, হারুকান্দির ইউনিয়নের ভেলাবাদ, হারুকান্দি, চাঁদপুর, গোপীনাথপুর ইউনিয়নের চরপাড়া, উজানপাড়া, ভাটিপাড়া, বাহাদুরপুর, ছোট বাহাদুরপুর, কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি, শুভকান্দি, বৈদ্যকান্দি ও কাঞ্চনপুর; লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের পাটগ্রাম, সিলিমপুর, হরিহরদিয়া, কাজিকান্দা, গঙ্গাপ্রসাদ, রুস্তমপুর ও লেছড়াগঞ্জ, ধূলশুড়া ইউনিয়নের কমলাপুর, নীলগ্রাম, আবিধারা, গঙ্গারামপুর, শ্যামপুর, রামেশ্বরপুর, আলিয়ানগর এবং আজিমনগর ইউনিয়নের বাগডাঙ্গি, বসন্তপুর, এনায়েতপুর, হাতিঘাটা, জালালদি গ্রামসহ আরও বেশ কিছু এলাকায় অসংখ্য বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে পথঘাট ডুবে যাওয়ায় নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে।

আজিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, তাঁর ইউনিয়নের পুরোটাই পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ইউনিয়নের সবগুলো গ্রামই বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। প্রায় পাঁচ শতাধিক বাড়িতে পানি উঠেছে। গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষেরা।
লেছড়াগঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, তাঁর ইউনিয়নেরর অধিকাংশ পদ্মার চরে অবস্থিত। শুক্রবার লেছড়াগঞ্জের নটাখোলা, সিলিমপুর, গঙ্গারামপুরসহ ১০টি গ্রামের অধিকাংশ মানুষের বাড়িতে পানি ওঠায় চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছে তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) ফারুক আহমেদ বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে মানিকগঞ্জেও নদ-নদীতে পানি বাড়ছে। ফলে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে পদ্মা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলায় মারাত্মক বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফারুক আহমেদ আরও জানান, আজ শনিবার সকাল নয়টায় শিবালয় উপজেলার আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। হরিরামপুরের পদ্মার পানিও বিপৎসীমার প্রায় ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান বলেন, জেলার সবচেয়ে নিচু এলাকা পদ্মা নদী তীরবর্তী এই উপজেলা। পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন। তিনি বলেন, উপজেলা সদরের প্রধান সড়কের পাটগ্রাম অনাথ বন্ধু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মোড়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ও উপজেলা বাসস্ট্যান্ড এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে সড়ক ধসে গেছে। এতে উপজেলা সদরে যাতায়াত মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেক এলাকায় পানির স্রোতে কাঁচা রাস্তা ধসে গেছে।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি মজুত রাখা হয়েছে। উপজেলায় বন্যাকবলিত মানুষের থাকার জন্য দুটি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে চারটি ইউনিয়নের ৪০০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ##

এনএইচ/ পাবলিক ভয়েস

আপনার অভিমত/মন্তব্য জানাতে পারেন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্যটি লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন