প্রথমপাতা সম্পাদকীয় করোনা মোকাবেলায় উদ্যোগ

করোনা মোকাবেলায় উদ্যোগ

1
0

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের জন্যও করোনাভাইরাস ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা। ফলে শুরুতে খানিকটা ঢিলেঢালা ভাব থাকলেও পরে যথাসম্ভব প্রস্তুতি নিয়েই করোনা মোকাবেলায় সচেষ্ট হয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন করোনার আঘাতে একই সঙ্গে জীবন বাঁচানো এবং নিজের খাওয়া-পরার যুদ্ধ করতে হবে দেশের মানুষকে। আর তাই করোনা মোকাবেলায় দরিদ্র মানুষের সহায়তায় অর্থ ও খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি সরকারি নানা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে এসএমই, কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ভর্তুকি দিয়ে তহবিল দিয়েছেন। দরিদ্র ও অতিদরিদ্রদের যাতে খাবারের সমস্যা না হয়, সে জন্যও পদক্ষেপ নিয়েছেন। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলায় ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য সরকার যে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তার অর্ধেক অর্থের জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার একটি পুনরর্থায়ন তহবিল গঠন করার পাশাপাশি এই তহবিল থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিভাবে প্রণোদনার ঋণ বিতরণ হবে, তার নীতিমালা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী সব কিছু সময়মতো দিলেও প্রণোদনা প্যাকেজে নানা অসংগতিও ধরা পড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব প্যাকেজ তদারকি করছে, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করলেও লকডাউনের কারণে ব্যাংকগুলোর পর্ষদ সভা হচ্ছে না দুই মাস ধরে। ফলে তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তৎপরতা সুচারুভাবে পরিচালনার নির্দেশ দিলেও শুরু থেকেই এ খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। স্থানীয় পর্যায়ে মেম্বার-চেয়ারম্যানদের অনেকেই সরকারি চাল ও তেল চুরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন—এমন খবর এসেছে গণমাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বন্ধ হয়নি অনিয়ম। শুধু তা-ই নয়, প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তৎপরতায় স্বচ্ছতা আনতে প্রথমবারের মতো দেশের ৬০ সচিবকে ৬৪ জেলার দায়িত্বে পাঠান। প্রকাশিত খবর বলছে, তাঁদের অনেকে এখনো নিজ নিজ জেলায় যাননি। প্রধানমন্ত্রীর ৩১ নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাও অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও দ্রব্যমূল্য রোজা সামনে রেখে বেড়ে চলেছে। পুরনো চক্রগুলো সক্রিয় রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা খুলে দেওয়ার কথা বললেও কারখানাগুলোর অনেকেই তা মানছে না। অনেককে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা ও তদারকির অভাব বিভিন্ন সময়ে ধরা পড়েছে।

করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কেন মেনে চলা হচ্ছে না, তা তদন্তের দাবি রাখে বলে আমরা মনে করি।

আপনার অভিমত/মন্তব্য জানাতে পারেন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্যটি লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন