প্রথমপাতা নির্বাচিত ভাল থাকিস রে দোস্ত, বেঁচে থাকলে দেখা হবে

ভাল থাকিস রে দোস্ত, বেঁচে থাকলে দেখা হবে

17
0

আরিফ হোসেন সবুজ:  বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ৫ বছরে এমন অনিশ্চয়তা, সংশয় আর আবেগাপ্লুত হয়ে একযোগে ঘরে ফেরার মিছিল আমি আর কখনও দেখিনি। ভ্যাকেশনে তো আমরা প্রায়শই ঘরে ফিরতাম। তবে এভাবে কি?

প্রিয় অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে এভাবে মৃতপুরীর ন্যায় ফেলে রেখে কখনো যেতে দেখিনি। এমনকি গ্রীষ্মকালীন অবকাশ, রমজানের ছুটি হলেও প্রাণের ক্যাম্পাস কখনো প্রাণহীন পড়ে থাকেনি। শাটলের হুইসেলও বন্ধ হতে দেখিনি।

এই তো কয়েকদিনের জন্যই তো ছুটি (১৬ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল), তারপর তো আবারও ক্যাম্পাস মাতৃকা তাঁর সন্তানের পদচারণায় ফিরে পাবে আপন প্রাণ। তারপরেও কেন এত অনিশ্চয়তা?

হ্যাঁ অনিশ্চয়তা আছে বৈকি। দেশময় করোনা আতঙ্কে একটি বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক ভাই-বন্ধু-আপুদের দেখলাম বিদায় বেলায় বলছে, “ভাল থাকিস রে দোস্ত। জানি না কখনো দেখা হবে কিনা। হয়তো এ ছুটি শেষ হওয়ার পূর্বেই হয়ে যেতে পারে জীবনের ছুটি। যে ছুটির জন্য আমরা হয়তো এখনো প্রস্তুত নই, অথচ মহামারী তো আর সে বারণ মানবে না।”

এমনিভাবে নানাজন নানাভাবে বিদায় নিচ্ছে সহপাঠী, শিক্ষক এবং প্রিয়জনের নিকট থেকে।

শুধু বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন নয়, সারা দেশব্যাপী একটি থমথমে ভাব বিরাজ করছে। সেই সাতচল্লিশের দেশভাগ কিংবা ৭১ এর গণহত্যার দিনগুলোতে লোকজন যেমন সব ছেড়ে একটু নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দ্যেশে যাত্রা করেছিল গ্রামে কিংবা দূরে কোথাও। ঠিক তেমনি একটি মিছিল যেন দেখতে পাচ্ছি গত কয়েকদিন ধরে।

মানুষজন বাঁচতে চায় কিংবা মৃত্যুর মিছিলে শামিল হতে চায় না।

শিক্ষার্থী, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার অভিমত/মন্তব্য জানাতে পারেন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্যটি লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন