প্রথমপাতা বিশ্ববিদ্যালয় রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর; টাকা ও ফোন কেড়ে নেয়ার অভিযোগ

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর; টাকা ও ফোন কেড়ে নেয়ার অভিযোগ

5
0

 রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে ৩ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার মির্জাপুর হানুফার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিরাপত্তা চেয়ে মতিহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ। এদিকে টাকা ও মোবাইল কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম শাহরিয়ার হাসান। সে কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। সে হানুফার মোড়ে ছায়ানীড় নামে একটি মেসে থাকেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সুজন (৩৫)। তার বাড়ি মন্ডলের মোড়ে। সে কন্সট্রাকশনের কাজ করেন।

এ বিষয়ে শাহরিয়ার হাসান বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে মেসের সামনে দাঁড়িয়ে বান্ধবীর সঙ্গে কথা বলছিলাম। এমন সময় সুজন নামের স্থানীয় ব্যক্তি এসে আমাকে ও আমার বান্ধবীর কাছে জানতে চাই কেন এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। এর একপর্যায়ে আমাকে জামার কলার ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে আমাকে চড়-থাপ্পর মারে। এসময় আমার কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও তিন হাজার টাকা কেড়ে নেয়। পরে মেসে এসে আরো টাকা দাবি করেন। শাহরিয়ারের সঙ্গে থাকা তার বান্ধবী বলেন, ওই ব্যক্তি আমাদের এসে নাম ও বাসা কোথায় জানতে চাইছিলো। পরে আমাকে মেসে রেখে আসে। এরপরে শাহরিয়ারকে চড়-থাপ্পড় মারতে পারে। এসময় তার থেকে মোবাইল ও টাকা কেড়ে নিয়েছে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত সুজন বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমার বাড়ির সামনে তাদের দুজনকে গল্প করতে দেখি। সন্ধ্যার সময় অন্ধকারে কথা বলছে দেখে তাদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করি তোমরা এখানে কি করছো। পরে মেয়েটি যে মেসে থাকে সেই মেস মালিকের সঙ্গে কথা বলে তাকে মেসে ফিরিয়ে দেই।

মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাকে মারধর করিনি। তাকে ধমক দিয়ে শাসন করেছি যেন পরবর্তীতে সে এ ধরনের ঘটনা না ঘটায়। টাকা ও মোবাইল কেড়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার থেকে কোনো ধরনের টাকা বা মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়নি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করেন। ফোন দিয়ে টাকা দাবি করার বিষয়ে বলেন, তাকে ফোন দেওয়া হয়নি। ভয় পেয়েছে এই ভেবে পরে তার সঙ্গে মেসে দেখা করতে গিয়েছিলাম। একসঙ্গে চা খাওয়ার জন্য বলেছিলাম। যাতে ভয় পেয়ে থাকলে তা দূর হয়ে যাবে। এর বাইরে তার সঙ্গে আমার আর কোনো কথা হয়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ছেলেটি আমার কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ নিয়ে এসেছিলো। তাকে মতিহার থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি। আর আমার কাছে একটা লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ওই শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে দ্রুত হলে তুলে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকেও সবর্দা সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ জানান, মোবাইল ও টাকা কেড়ে নেওয়ার বিষয়ে আমরা একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আপনার অভিমত/মন্তব্য জানাতে পারেন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্যটি লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন