প্রথমপাতা সম্পাদকীয় হাসিনা ও চিনপিং শীর্ষ বৈঠক

হাসিনা ও চিনপিং শীর্ষ বৈঠক

2
0

বাংলাদেশের উন্নয়নে অন্যতম অংশীদার চীন। পদ্মা সেতু, পায়রা বিদ্যুৎ হাব, রেল সংযোগসহ অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে চীনের সহায়তায়। চীনের উদ্যোগে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারত ও চীনের মধ্যে গড়ে উঠছে আঞ্চলিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতার এই সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরো ঘনিষ্ঠ ও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দুই সরকারপ্রধান। গত শুক্রবার বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই আশা প্রকাশ করা হয়। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে দুই বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থান প্রসঙ্গে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, অনেক হয়েছে, আর নয়। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়াটাই একমাত্র সমাধান বলে মনে করেন তিনি। যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার সমাধান হতে হবে। এ ব্যাপারে চীন সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত। তার আগে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া শুরু হবে।

আগের দিন বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খোয়াছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। সে সময় দুই দেশের মধ্যে আটটি চুক্তি ও এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) এবং একটি বিনিময়পত্র সই হয়। চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের মধ্যে রয়েছে—ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কম্পানি (ডিপিডিসি) এলাকায় বিদ্যুত্ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও সম্প্রসারণে কাঠামো চুক্তি, সরকারি পর্যায়ে ‘কনসেশনাল’ ঋণচুক্তি, ‘প্রেফারেনশিয়াল বায়ারস্’ ঋণচুক্তি, পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণে কাঠামো চুক্তি, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা চুক্তি, বিনিয়োগ সহযোগিতা ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এমওইউ, ব্রহ্মপুত্র-ইয়াংলু ঝাংবো নদের পানিপ্রবাহসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত বিনিময় পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়ন বিষয়ে এমওইউ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পর্যটন কর্মসূচিসংক্রান্ত এমওইউ। এ ছাড়া দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বাণিজ্যবৈষম্য কমিয়ে আনা এবং মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার উপস্থিতি এক জ্বলন্ত সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। আশ্রিত রোহিঙ্গারা ক্রমেই বাংলাদেশের আনাচকানাচে ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালান, সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধে যুক্ত হয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিসহ প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে মিয়ানমার প্রায় দুই বছর আগে প্রত্যাবাসন চুক্তি করলেও তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না। বাংলাদেশের পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গেও চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, চীনের মধ্যস্থতাই শুধু পারে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে। চীনের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ সিপিসির নেতারাও আশ্বস্ত করেছেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা অং সান সুচিসহ মিয়ানমারের নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং দ্রুততম সময়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন। আমরাও তেমনটাই আশা করি। একই সঙ্গে আশা করি, বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন আগামী দিনগুলোতে আরো বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আপনার অভিমত/মন্তব্য জানাতে পারেন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্যটি লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন