প্রথমপাতা শিক্ষাঙ্গন সাদা টি-শার্টে কালো মার্কারের স্মৃতিকথনের শেষ আচড়!

সাদা টি-শার্টে কালো মার্কারের স্মৃতিকথনের শেষ আচড়!

75
0

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ! একসাথে সবার পথচলা শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। দিনের পরিক্রমায় পরিচয়, বন্ধুত্ব, ক্লাসের আড্ডা, এ্যাটেন্ডস প্রক্সি দেওয়া, টুকিটাকিতে টেবিল চাপড়িয়ে গান করা, একসাথে পশ্চিম পাড়ায় গভীর রাতে গলা ছেড়ে গান গাওয়া, রোকেয়া হলের সামনে বসে বান্ধবীর হাতে রান্না খাওয়া, বন্ধুদের হলে রান্না করে একসাথে খাওয়া, পরীক্ষার আগের রাতে হলে হলে বন্ধুদের কক্ষে গিয়ে নোট নেয়ার প্রতিযোগিতা।

এই স্বল্প সময়ে কত স্মৃতিই না জমেছে ঝুলিতে! কিন্তু এসব দুষ্টুমি, আড্ডা আর চাইলেও করতে পারবে না সাংবাদিকতা বিভগের ২৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

গত ১২মার্চ হয়ে গেল এই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের র‌্যাগ ডে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তির শেষ ঘণ্টা বেজেছে ওই দিন। কাল নয়, লাল নয়, হলুদ নয় ধবধবে সাদা টি-শার্ট এ কাল মার্কারের রঙে বিশ^বিদ্যালয়ে একসাথে কাটানো বন্ধুদের সাথে স্বৃতিময় বাণী গুলো একে অপরকে লেখার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের চারটি বছরের স্মৃতির স্বাদ ফুটে তুলেছে একটি টি শার্টে। এইতো অল্প কিছু সময়ে দ্রুত ফুরিয়ে গেল তাদের জীবনের সোনালী দিনগুলি।

বসন্তের কুয়াশা মোড়ানো সকালবেলায় রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে জড়ো হয়েছে সাংবাদিকতা বিভাগের একটি ব্যাচ। তারা একে অপরের টি-শার্টে মনের অগোছালো কথাগুলো রঙিন কালি দিয় লিখছে।

বন্ধুদের কেউ দুষ্টুমির ছলে আবিরের নানা রঙ দিয়ে রাঙিয়ে দিচ্ছে অন্য বন্ধুর মুখ, টি-শার্টে লিখছে নিজেদের নাম, ভালো ছেলে, বন্ধু ভাল থেকো, মনে পড়বে তোমায় আবার কেউ লিখেছেন ফাঁকিবাজ, ঘুমবাবু, অলওয়েজ লেট ইত্যাদি ইত্যাদি। এই কথাগুলো বন্ধুদের টি-শার্টে লিখে তারা স্মরণীয় করে রাখতে চাই। এরপর সেখানে তারা গানের তালে দলবদ্ধ হয়ে নাচতে থাকেন। কেউ আবার ব্যস্ত স্মরণীয় এসব দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে।

উজ্জ¦ল হোসেন সায়েম নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘বন্ধুদের টানেই ‘র‌্যাগ ডে’ ক্লাস শেষ! অনেকেই অনেকের কাছ থেকে আলাদা হয়ে গেলেও সবার সঙ্গে যাতে সবার সুসম্পর্ক এবং স্মরণীয় করে রাখতেই এ আয়োজন। তিনি আরও বলেন ‘টানা চার বছর একসঙ্গে একটা পরিবারের মতোই ছিলাম আমরা। চলে যেতে হবে ভেবেই খারাপ লাগছে।’

ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জয়শ্রী, পুষ্প, শহিদ, ফরিদ, মমিন, পলাশ, রিয়া ও সুজনসহ অনেকেই বলেন, ‘কোনো কাজ না থাকলেও কয়েক বন্ধু মিলে ক্যাম্পাসে বসে আড্ডা দিতাম। এই বসে থাকার মধ্যে কী যে মধুর ছিল, বলে বোঝানো সম্ভব নয়।’

বিকেলে একডেমিক সময় শেষ হলে তারা বিশ্ববিদ্যালয় শহিদ ড. জোহা চত্বরের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এরপর অটোযোগে রাজশাহী নগরের একটি রেস্টুরেন্টে সেদিনের রাতের খাবার সেরে নেন। ব্যস্ত একটি দিন শেষে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় দিলেন। সবাই বললেন, সময় খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাচ্ছে…! বন্ধু ও বন্ধুত্ব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাংবাদিকতা বিভাগের ২৪ তম বন্ধুত্ব বেঁচে থাক চিরকাল!

আপনার অভিমত/মন্তব্য জানাতে পারেন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্যটি লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন